বর্তমান সমাজে আমাদের জীবনযাত্রা আমূল বদলে গেছে। কুড়ি বছর আগেও যেগুলি আমাদের কল্পনার বাইরে ছিল সেগুলি এখন আমাদের হাতের মুঠোয়। সে বিজ্ঞানের অগ্রগতিই হোক বা আমাদের জীবনযাত্রার পরিবর্তন। বড়সড় বদল এসেছে সবেতেই। তার সুপ্রভাব এবং কুপ্রভাব দুইই চালনা করছে আমাদের জীবনকে। সোশ্যাল মিডিয়া যেমন দূরের মানুষকে মুঠোফোনে বন্দি করে দিয়েছে, তেমনই পাল্লা দিয়ে বেড়েছে পরকীয়া, মিথ্যাচার এবং জটিলতা। একটা সম্পর্কের শেষ পরিণতি বিয়ে। এমনটাই ভাবতাম আগে আমরা। এখন কিন্তু গল্প সম্পুর্ন আলাদা। বিয়ের পরেই সবটা থেমে থাকছেনা। গড়িয়ে যাচ্ছে ডিভোর্স অবধি। যার মূল কারণ হলো পরকীয়া। বিয়ের।পরেও অন্য মানুষের প্রতি আকৃষ্ট হওয়ার এই প্রবণতাই শেষ করে দিচ্ছে সংসার।

মেয়েদের পাশাপাশি ছেলেরাও কম যায়না কোন অংশে। তবে আজকের পোস্টে আমরা মেয়েদের।কারণগুলো নিয়েই আলোচনা করব। যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরি স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এলিসিয়া ওয়াকার নারীর গোপন সম্পর্ক নিয়ে একটি বই লিখেছেন। তিনি তথ্য-প্রমাণ হাজির করে জানিয়েছেন, যেসব নারী স্বামীকে ভালোবাসেন আর বিবাহিত সম্পর্কও অটুট রাখতে চান, তাঁরাই বেশিরভাগ স্বামীর সঙ্গে প্রতারণা করেন। বইটির নাম ‘প্রতারক স্ত্রীর গোপন জীবন’ রেখেছেন এ শিক্ষক-গবেষক।

এক বছর ধরে ওয়াকার ২৪ থেকে ৬৫ বছর বয়সী ৫০ জন নারীর সাক্ষাৎ নেন। একটি ম্যারিড ডেটিং সাইটের ওপর গবেষণার অনুরোধ এলে তিনি বিভিন্ন নারীর সঙ্গে কথা বলেন। দেখেন, যেসব নারী স্বামীর সঙ্গে প্রতারণা করেন, তাঁরা বিবাহ নামক সম্পত্তিটি হাতছাড়া করতে চান না, তাঁরা শুধু যৌনতা ও পুলক খোঁজেন অন্যের কাছে!

যারা স্বামীর সঙ্গে প্রতারণা করেন তাদের অর্ধেকের বেশি নারী হয়তো যৌনতাবিহীন বিবাহ সম্পর্কে আছেন অথবা তাঁরা পুলকবোধ করেন না এবং সেজন্যই স্বামীর সঙ্গে এ অবিশ্বস্ততা।

যারা স্বামীকে ভালোবাসি বলেন, অথচ তাঁর সঙ্গে প্রতারণা করেন; তাঁরা আসলে নতুন সঙ্গী খুঁজতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন, আর তাই গোপন প্রণয় সারেন। তিনি দেখেন, বেশিরভাগ নারীর কাছে এ আচরণ স্বতঃস্ফূর্ত পছন্দ নয়, এক ধরনের প্রয়োজনীয়তা।

গবেষণায় অংশ নেওয়া নারীদের মধ্যে প্রায় সবাই বলেছেন, ‘আমি অনেক বছর বিবাহিত সম্পর্কে আছি, তাই, হয় আমাকে প্রতারণার মাধ্যমে অন্য কারো কাছ থেকে পুলক নিতে হবে, নয়তো আমাকে স্বামী ছাড়তে হবে।’

এলিসিয়া ওয়াকার বলেন, এটা খুবই হিসাবী সিদ্ধান্ত, যা তাঁরা বৈবাহিক জীবন থেকে হারিয়ে ফেলেছেন, চরম পুলক তার মধ্যে একটি; এবং তাঁরা সত্যিই বিবাহিত অবস্থায় প্রতারণা করছেন, যা বিস্ময়কর।

গবেষণায় অংশ নেওয়া নারীদের একজন ৪৫ বছর বয়সী গ্যাব্রিয়েল। তিনি তাঁর বিবাহিত জীবনের বেদনাদায়ক অধ্যায়গুলো জানান অধ্যাপক ওয়াকারকে। বলেন, ‘আমি হাঁটুতে মুখ লুকিয়ে অনেক কেঁদেছি। পরে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, হয় প্রতারণা করব, নয় পালাব।’

অনেক নারীই বলেছেন, অসুস্থতার কারণে তাদের স্বামী শারীরিকভাবে অক্ষম। কিন্তু তাদের যৌন চাহিদা পূরণ করা জরুরি এবং তাঁরা তাঁদের বিবাহিত জীবনও ধ্বংস করতে চান না। আর এ জন্য তাঁরা প্রতারণাকে খারাপভাবে দেখছেন না। তবে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে অনেকে আছেন, যারা যেকোনো সম্পর্কে থেকেই প্রতারণা করেন। নতুনত্ব সন্ধানী তাঁরা।

Image Source : Google

তবে দুজনের সম্পর্ক যে শুধু শারীরিক তা মানতে নারাজ কেউ কেউ। তাঁরা বিবাহিত সম্পর্ক ছেড়ে দিয়ে অন্য সঙ্গী খুঁজতে আগ্রহী। দীর্ঘদিন একসঙ্গে থাকার ফলে যুগলের ভেতর ভালোবাসা সৃষ্টি হয়, এর মূল্যও অনেক। তাই ভালোবাসার মানুষটির সঙ্গে প্রতারণা করতে চান না তাঁরা।

তবে এটা বিস্ময়কর, বেশিরভাগ নারীর সঙ্গে কথা বলে অধ্যাপক ওয়াকার এ সিদ্ধান্তে এসেছেন, পুলক-প্রয়োজনীয়তাই তাদের ‘ভালো স্ত্রী’ ও ‘ভালো মা’ করে তুলছে। আর সবচেয়ে যেটার দিকে মনোযোগ দিতে হবে, তা বৈবাহিক সম্পর্ক রক্ষাও করছে!

The post মেয়েরা কেন ঝোঁকে পরকীয়ার দিকে?কি বলছে গবেষণায় জানলে অবাক হবেন appeared first on Moner Diary.

Categories: Others

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *